অস্ট্রেলিয়ার প্রথমবারের মত টি-টোয়েন্টিতে বিশ্বজয় এর কাহিনী আজ আপনাদের শুনাব । আশা করি পুরো আরটিকেল টি পরেন। দীর্ঘ ২৯ দিনের লড়াই শেষে ১৪ নভেম্বর বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা। মুখোমুখি দুই অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের দুই পাড়ের দেশ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই প্রথম ফাইনালে উঠল নিউজিল্যান্ড।

অস্ট্রেলিয়া এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনাল খেলছে।

টস জিতে আগে বোলিং নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

নিউজিল্যান্ড দলে বদল একটি, চোটে পড়া ডেভন কনওয়ের জায়গায় দলে ঢুকেছেন টিম সাইফার্ট। অস্ট্রেলিয়ার একাদশ অপরিবর্তিত।

নিউজিল্যান্ড একাদশ:

১). মার্টিন গাপটিল, ২). ড্যারিল মিচেল, ৩). কেইন উইলিয়ামসন, ৪). গ্লেন ফিলিপস, ৫). টিম সাইফার্ট, ৬). জিমি নিশাম, ৭). মিচেল স্যান্টনার, ৮). অ্যাডাম মিলনে, ৯). টিম সাউদি, ১০). ইশ সোধি ও ১১). ট্রেন্ট বোল্ট।

অস্ট্রেলিয়া একাদশ:

১). ডেভিড ওয়ার্নার, ২). অ্যারন ফিঞ্চ, ৩). মিচেল মার্শ, ৪). স্টিভ স্মিথ, ৫). গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ৬). মার্কাস স্টয়নিস, ৭). ম্যাথু ওয়েড, ৮). প্যাট কামিন্স, ৯). মিচেল স্টার্ক, ১০). অ্যাডাম জাম্পা ও ১১). জশ হ্যাজলউড।

সংখ্যার খেল

  • দুবাইয়ে আগের ২০টি টি-টোয়েন্টিতে আগে ব্যাট করে ১৮০ রান করা দল কখনো হারেনি।

  •  এবারের বিশ্বকাপে দুবাইয়ে ১২ ম্যাচের মধ্যে ১০ বারই টস জয়ী দল শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতেছে।
  • ১৯৮১ সালের পর কোনো নকআউট ম্যাচে কখনো অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। এ সময়ে দুই দল নকআউট পর্বে ম্যাচ খেলেছে ১৬টি।

পাওয়ার প্লে-তে নিউজিল্যান্ড পেল ৩২ রান

প্রথম তিন ওভারে ২৩ রান করা নিউজিল্যান্ডের রানের গতিতে বাধা পড়েছে ড্যারিল মিচেল আউট হওয়ার পর। পরের তিন ওভারে কেইন উইলিয়ামসন ও মার্টিন গাপটিল নিতে পেরেছেন মাত্র ৯ রান। পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের রান ১ উইকেটে ৩২। এবারের বিশ্বকাপে পাওয়ার প্লে-তে এটাই নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে কম রান। এর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড পাওয়ার প্লে-তে করেছিল ৩৬ রান।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে জশ হ্যাজলউড দারুণ বোলিং করেছেন, ৩ ওভারে মাত্র ১১ রান দেওয়ার পাশাপাশি তুলে নিয়েছেন মিচেলের উইকেট।

টানা দুই চারে উইলিয়ামসন ঘোচালেন ৩২ বলের খরা

নিউজিল্যান্ডের বাউন্ডারি-খরা ঘুচেছে অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসনের ব্যাটে। নবম ওভারে মিচেল মার্শের চতুর্থ ও পঞ্চম বলে টানা দুই চার মেরেছেন উইলিয়ামসন। এর আগে ৩২ বলে কোনো চার বা ছক্কা পায়নি নিউজিল্যান্ড! উইলিয়ামসনের দুই চারের দ্বিতীয়টিতে নিউজিল্যান্ডের রানও পঞ্চাশ পেরিয়েছে।

দশম ওভারে জাম্পার ওভারে আবার কোনো বাউন্ডারি আসেনি। সেই ওভারে ৬ রান নিয়ে ইনিংসের প্রথম অর্ধেক, অর্থাৎ ১০ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের রান ১ উইকেটে ৫৭।

জাম্পা ফেরালেন গাপটিলকে

মিচেল স্টার্কের আগের ওভারে ১৯ রান নিলেন উইলিয়ামসন, কিন্তু কিউইদের উত্তেজনা পরের ওভারের প্রথম বলেই মিইয়ে দিলেন অ্যাডাম জাম্পা। তাঁকে উড়িয়ে মারতে ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়লেন রান নিতে খাবি খেতে থাকা গাপটিল। পরিসংখ্যান দেখাচ্ছিল, জাম্পার বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের বড় অস্ত্র হতে পারেন গাপটিল, সেই গাপটিলই জাম্পার বলে ফিরলেন। ফিরলেন ৩৫ বলে ৩ চারে ২৮ রান করে।

টানা দুই ছক্কায় উইলিয়ামসনের ফিফটি

১২তম ওভারে গাপটিল ফেরায় নিউজিল্যান্ড যদিও-বা কিছুটা হতাশ হয়ে থাকে, সেটি কেটে যাচ্ছে অধিনায়কের ব্যাটেই। ১৩তম ওভারে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে টানা দুই ছক্কা মারলেন উইলিয়ামসন! দ্বিতীয় ছক্কায় তাঁর অর্ধশতকও হয়ে গেল, মাত্র ৩২ বলে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে দ্রুততম অর্ধশতক এটি।

অস্ট্রেলিয়াকে ১৭৩ রানের লক্ষ্য দিল নিউজিল্যান্ড

শেষ ওভারে এসে কিছুটা ছন্দ খুঁজে পেয়েছেন মিচেল স্টার্ক। আগের তিন ওভারে ৫০ রান দেওয়া অস্ট্রেলিয়ান বাঁহাতি ফাস্ট বোলার শেষ ওভারে দিয়েছেন ১০ রান। প্রথম বলে অবশ্য ইয়র্কার দেওয়ার চেষ্টায় সফল হতে পারেননি স্টার্ক, সেই বলে বাউন্ডারি মেরেছেন সাইফার্ট। কিন্তু পরের পাঁচ বলে মাত্র ৬ রান দিয়েছেন স্টার্ক।

পাওয়ার প্লে-তে অস্ট্রেলিয়ার রান ৪৩

ফিঞ্চ আউট হলেও মিচেল মার্শ ও ডেভিড ওয়ার্নার মিলে অস্ট্রেলিয়ার রানের চাকা সচল রেখেছেন দারুণভাবে। চতুর্থ ওভারে ছক্কা মেরে অ্যাডাম মিলনেকে বোলিংয়ে ‘স্বাগত’ জানানো মার্শ পরের দুই বলে মেরেছেন আরও দুটি চার। পরের ওভারে সাউদির স্লোয়ারে ছক্কা হাঁকিয়েছেন ওয়ার্নার। ফিঞ্চ আউট হওয়ার পর ৩ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল ১ উইকেটে ১৫, পরের দুই ওভারেই এল যথাক্রমে ১৫ ও ১০ রান।

ষষ্ঠ ওভারে অবশ্য মিলনে রানে কিছুটা বাধ দিতে পেরেছেন। এই ওভারে এল ৩ রান। পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ১ উইকেটে ৪৩। নিউজিল্যান্ডের রান এ সময়ে ছিল ১ উইকেটে ৩২।

ওয়ার্নারের অর্ধশতক

পাওয়ার প্লে-র আগে মূলত এক-দুইয়ের ওপর ভর করে খেলতে থাকা ওয়ার্নার পাওয়ার প্লে-র পর থেকে আগ্রাসী হয়ে উঠেছেন। পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভার শেষ হওয়ার সময় তাঁর রান ছিল ২০ বলে ১৯, সেই ওয়ার্নারই নিউজিল্যান্ডের দুই স্পিনারের ওপর চড়াও হয়ে রানের গতি বাড়িয়েছেন দারুণভাবে। ১১তম ওভারে জিমি নিশামকেও ছাড়েননি। চতুর্থ বলে নিশামকে বিশাল ছক্কা—তাঁর ইনিংসের তৃতীয় ছক্কা—হাঁকিয়ে অর্ধশতকেও পৌঁছে গেছেন ওয়ার্নার, বল লেগেছে ৩৪টি। এর মধ্যে চার মেরেছেন ৪টি।

অন্য প্রান্তে মার্শও দারুণ হিসেবী আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছেন। ২ চার ও ৩ ছক্কায় তিনি অপরাজিত ২৫ বলে ৩৯ রান করে। নিশামের ১১তম ওভারের প্রথম বলে মার্শও ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। ওই ওভারে ১৫ রান নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রান ১১ ওভারে ১ উইকেটে ৯৭

মার্শের অর্ধশতক

১৪তম ওভারে ইশ সোধিকে ছক্কা মেরে ফিফটি তুলে নেন মিচেল মার্শ। ওই ওভারে আরও একটি চার মারেন তিনি। ৩৩ বলে ৫৯ রানে ব্যাট করছিলেন মার্শ। ১৪ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়া ২ উইকেটে ১৪৫। জয়ের জন্য ৩৬ বলে ৪৮ রান দরকার অস্ট্রেলিয়ার।

ম্যাক্সওয়েলের রিভার্স সুইপে বিশ্বকাপ অস্ট্রেলিয়ার!

সাউদির করা ১৯তম ওভারের প্রথম চার বলে ৭ রান নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আর ৮ বলে দরকার ছিল ৪ রান। ম্যাক্সওয়েল স্বভাবসুলভ রিভার্স সুইপে বাউন্ডারি মেরে হিসেব মিলিয়ে দিলেন ৭ বল বাকি রেখেই!

নিউজিল্যান্ডের ১৭২ রান হেসেখেলে ৮ উইকেট হাতে রেখেই পেরিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া।

নিউজিল্যান্ডকে হতাশায় পুড়িয়ে অবশেষে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ

ওয়ানডে বিশ্বকাপ তারা পাঁচবার জিতেছে, আর কারও যেখানে দুটির বেশি নেই। যদিও দুবছর আগে চালু হওয়া টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা নিউজিল্যান্ডই জিতেছে, সেখানে অস্ট্রেলিয়া ফাইনালে খেলতে পারেনি, কিন্তু সে তো মাত্রই শুরু হয়েছে। এর আগে টেস্টে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে অনেকবারই উঠেছে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে একটা শিরোপার জন্য অস্ট্রেলিয়ার অপেক্ষা ছিল অনেকদিনের। সেই ২০০৭ সাল থেকে চলছে সংক্ষিপ্ত সংস্করণের বিশ্বকাপে শিরোপার জন্য অস্ট্রেলিয়ানদের দিন গোনা। অবশেষে দুবাইয়ে এসে হলো আজ অপেক্ষার সমাপ্তি।

নিউজিল্যান্ডের জন্য আরেকবার রইল হতাশা। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে, কিন্তু সর্বশেষ দুটি ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও হেরে যাওয়া কিউইদের নিজেদের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালেও হতাশই হতে হলো।

ব্যাট হাতে নিউজিল্যান্ড আশা জাগিয়েছিল। অধিনায়ক উইলিয়ামসনের ৮৫ রানের অসাধারণ ইনিংসে ১৭২ রান করেছিল। কিন্তু ওয়ার্নারের পর মার্শের হিসেবী আগ্রাসনে এত বড় লক্ষ্যও কী অনায়াসেই না পেরিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া!

খেলাধুলার ১০টি স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জানুন

খেলাধুলার ১০টি স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জানুন

What is a heart attack? Why is a heart attack? Ways of prevention

What is a heart attack? Why is a heart attack? Ways of prevention